হানজালা টেকনিক্যাল ইন্সটিটিউট
আমাদের দায় ও কর্তব্য হলো শিক্ষার্থীদের উত্তম শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দান, দেশকে সুনাগরিক উপহার দেওয়া এবং পরিবারকে গর্বিত ও দায়বদ্ধ ছেলে গড়ে তোলা। এই দেশ আমার, এই দেশকে সবার থেকে এগিয়ে রাখা দায় ও কর্তব্য আমার—আমি বাধ্য।
স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদি কোর্স
দ্রুত কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে আমাদের বিশেষ শর্ট কোর্সসমূহ।
বিস্তারিত দেখুনশিক্ষা জীবনের গুরুত্ব এবং বাংলাদেশে শিক্ষাপথ ও গবেষণা: ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা ও মানসিকতার রূপান্তর
১. শিক্ষা জীবনের মৌলিক গুরুত্ব ও সামাজিক ভিত্তি: শিক্ষা জীবনের গুরুত্ব কেবল একটি ভালো চাকরি পাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি মূলত একটি অন্তহীন যাত্রা, যা একজন মানুষের সুপ্ত প্রতিভাকে বিকশিত করে এবং তাকে একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলে। জীবনের প্রথম ২৫ বছর যে শিক্ষা আমরা গ্রহণ করি, তা পরবর্তী ৫০ বছরের পথচলার পাথেয় হিসেবে কাজ করে। বাংলাদেশে শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা এখনকার চেয়ে বেশি আর কখনো ছিল না। বর্তমান তথ্য-প্রযুক্তির যুগে শিক্ষা মানে কেবল বই পড়া নয়, বরং সমালোচনামূলক চিন্তা (Critical Thinking) এবং সমস্যা সমাধানের দক্ষতা অর্জন করা। একটি জাতির মেরুদণ্ড হিসেবে শিক্ষা সমাজের অন্ধকার দূর করে এবং অর্থনৈতিক মুক্তির পথ প্রশস্ত করে।
২. বাংলাদেশের শিক্ষাপথ ও বর্তমান প্রেক্ষাপট: বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থা বর্তমানে এক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে আছে। প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে শতভাগ এনরোলমেন্ট নিশ্চিত করার পর সরকার এখন শিক্ষার গুণগত মান বৃদ্ধির দিকে নজর দিচ্ছে। সৃজনশীল শিক্ষা পদ্ধতি থেকে শুরু করে নতুন জাতীয় শিক্ষাক্রম—সবকিছুর মূল লক্ষ্য হলো শিক্ষার্থীদের মুখস্থ বিদ্যার অভিশাপ থেকে বের করে আনা। তবে বাস্তব ক্ষেত্রে আমরা দেখি, গ্রেড পয়েন্ট বা জিপিএ-র পেছনে অন্ধ দৌড় শিক্ষার্থীদের প্রকৃত জ্ঞান অর্জন থেকে দূরে সরিয়ে রাখছে। এই শিক্ষাপথকে যদি আমরা কর্মমুখী ও জীবনমুখী করতে না পারি, তবে শিক্ষিত বেকারের সংখ্যা কমানো চ্যালেঞ্জিং হয়ে পড়বে।
৩. গবেষণার ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা: একটি উদীয়মান দিগন্ত: বাংলাদেশে গবেষণার ভবিষ্যৎ এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি উজ্জ্বল। এক দশক আগেও গবেষণার জন্য ফান্ড পাওয়া ছিল কল্পনাতীত, কিন্তু বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (UGC) এবং বিভিন্ন মন্ত্রণালয় গবেষণার জন্য বড় অংকের অনুদান দিচ্ছে। ভবিষ্যতে বাংলাদেশ হবে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম ‘গবেষণা হাব’। বিশেষ করে কৃষি গবেষণায় বাংলাদেশ ইতোমধ্যে বিশ্বকে পথ দেখাচ্ছে। লবণাক্ততা সহিষ্ণু ধান বা পাটের জিনোম সিকোয়েন্সিং—এগুলো আমাদের সক্ষমতার প্রমাণ। আগামী দিনে ডাটা সায়েন্স, জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এবং রিনিউয়েবল এনার্জি খাতে গবেষণার বিশাল সুযোগ তৈরি হবে। বাংলাদেশের তরুণরা যদি ল্যাবরেটরি-মুখী হয়, তবে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ড বিশ্বব্যাপী সমাদৃত হবে।
৪. শিক্ষার্থীদের বর্তমান মনমানসিকতা ও প্রচলিত চিন্তাধারা: দুর্ভাগ্যবশত, আমাদের শিক্ষার্থীদের একটি বড় অংশের মনমানসিকতা এখনো বিংশ শতাব্দীর ফ্রেমে আটকা পড়ে আছে। অধিকাংশ শিক্ষার্থীর জীবনের একমাত্র লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে বিসিএস ক্যাডার হওয়া বা সরকারি নিরাপদ চাকরি। এই মানসিকতা মেধার অপচয় ঘটাচ্ছে। উদ্ভাবনী চিন্তা বা নতুন কিছু করার চেয়ে ‘নিরাপদ জীবন’ খোঁজার প্রবণতা আমাদের জাতীয় সৃজনশীলতাকে বাধাগ্রস্ত করছে। অনেক শিক্ষার্থী মনে করে, ডিগ্রি শেষ করলেই দায়িত্ব শেষ; কিন্তু বাস্তব জগত প্রতিনিয়ত নিজেকে আপডেট করার দাবি রাখে। এই স্থবির চিন্তাধারা পরিবর্তনের সময় এসেছে।
৫. চিন্তাধারা পরিবর্তন ও মানসিক বিপ্লব: শিক্ষার্থীদের মনমানসিকতায় একটি বৈপ্লবিক পরিবর্তন প্রয়োজন। আমাদের শিখতে হবে ‘ফেইলর’ বা ব্যর্থতা মানে শেষ নয়, বরং এটি শেখার একটি ধাপ। গবেষণার কাজ বা উদ্যোক্তা হওয়ার পথে ঝুঁকি থাকবেই, কিন্তু সেই ঝুঁকি নেওয়ার সাহস অর্জন করতে হবে। শিক্ষার্থীদের বুঝতে হবে যে, পৃথিবীর সেরা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর লক্ষ্য কেবল কর্মচারী বানানো নয়, বরং নেতা বা উদ্ভাবক তৈরি করা। পড়াশোনার পাশাপাশি সফট স্কিল, কোডিং, ভাষা দক্ষতা এবং বৈশ্বিক রাজনীতি সম্পর্কে ধারণা রাখা এখন অপরিহার্য। যখন একজন শিক্ষার্থী সার্টিফিকেট পাওয়ার চেয়ে জ্ঞান অর্জনের তৃষ্ণাকে বড় করে দেখবে, তখনই তার মানসিক পরিবর্তন সার্থক হবে।
৬. ইন্ডাস্ট্রি ও একাডেমিয়ার সেতুবন্ধন: ভবিষ্যৎ সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে বিশ্ববিদ্যালয় এবং কর্মক্ষেত্রের মধ্যে একটি শক্তিশালী সেতুবন্ধন প্রয়োজন। পাঠ্যপুস্তকে যা পড়ানো হয়, তার সাথে বাস্তব কর্মক্ষেত্রের মিল না থাকলে গবেষণার কোনো মূল্য থাকে না। বাংলাদেশের শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলোকে গবেষণায় বিনিয়োগ করতে হবে এবং শিক্ষার্থীদের ইন্টার্নশিপ ও প্রজেক্টের মাধ্যমে হাতে-কলমে শেখার সুযোগ করে দিতে হবে। যখন একজন শিক্ষার্থী দেখবে যে তার গবেষণালব্ধ ফলাফল দেশের মানুষের উপকারে আসছে, তখন সে স্বাভাবিকভাবেই গবেষণার প্রতি আগ্রহী হবে।
উপসংহার: উপসংহারে বলা যায়, বাংলাদেশের তরুণ প্রজন্ম অত্যন্ত মেধাবী এবং পরিশ্রমী। প্রয়োজন শুধু সঠিক দিকনির্দেশনা এবং মনস্তাত্ত্বিক পরিবর্তন। ২০৪১ সালের স্মার্ট বাংলাদেশ গড়তে হলে আমাদের এমন এক শিক্ষা ব্যবস্থা প্রয়োজন যা হবে গবেষণা নির্ভর এবং প্রযুক্তি বান্ধব। শিক্ষার্থীদের উচিত কেবল চাকরির পেছনে না ছুটে নতুন নতুন সমস্যার সমাধান খোঁজা। শিক্ষার আলো তখনই প্রকৃতভাবে ছড়িয়ে পড়বে, যখন প্রতিটি শিক্ষার্থী নিজেকে একজন বৈশ্বিক নাগরিক হিসেবে কল্পনা করবে। আমাদের মনে রাখতে হবে, জ্ঞানই শক্তি, আর গবেষণাই সেই শক্তির উৎস।
তথ্যের উৎসসমূহ: এই আর্টিকেলটি প্রণয়নে আমরা ইউনেস্কোর শিক্ষা বিষয়ক গাইডলাইন, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (UGC) বার্ষিক প্রতিবেদন ২০২২-২৩, বিশ্বব্যাংকের ‘বাংলাদেশ ইকোনমিক আপডেট’ এবং বিভিন্ন জাতীয় দৈনিকের শিক্ষা ও গবেষণা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ কলাম থেকে তথ্য সংগ্রহ করেছি। এছাড়া বর্তমান বিশ্ববাজারের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে শিক্ষার্থীদের মানসিকতা পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তা বিশ্লেষণ করা হয়েছে।