প্রিয় পাঠক আপনি যদি নির্দিষ্ট সময়ের আমল গুলো চান তাহলে নিচের লেখাগুলোতে ক্লিক করুন

শোয়ার প্রস্তুতি ও রাতের কিছু আমল
ঘুম থেকে উঠে কিছু আমল
দুপুরের আগের গুরুত্বপূর্ণ আমল
জোহর থেকে মাগরিবের আমল
মাগরিব থেকে রাতের বিশেষ আমল

শোয়ার প্রস্তুতি ও রাতের কিছু আমল

১. শোয়ার প্রস্তুতি ও শারীরিক আমল

বিছানা ঝেড়ে নেওয়া: রাসূল (সা.) ঘুমানোর আগে তাঁর চাদর বা কাপড়ের আঁচল দিয়ে বিছানাটি তিনবার ঝেড়ে নিতেন, যাতে কোনো পোকা-মাকড় থাকলে তা সরে যায়।

অজু করা: রাসূল (সা.) ঘুমানোর আগে নামাজের অজুর মতো পূর্ণ অজু করতেন। এটি পবিত্র অবস্থায় আল্লাহর সান্নিধ্যে যাওয়ার একটি মাধ্যম।

ডান কাতে শোয়া: তিনি ডান কাতে শুয়ে ডান হাত গালের নিচে রেখে ঘুমাতেন। এটি আধুনিক বিজ্ঞান অনুযায়ী হৃদপিণ্ড ও শরীরের জন্য অত্যন্ত আরামদায়ক।

২. সুরা পাঠের আমল (৩ কুলের আমল)

পদ্ধতি: রাসূল (সা.) প্রতি রাতে শোয়ার সময় দুই হাত একত্রিত করে তাতে সুরা ইখলাস, সুরা ফালাক এবং সুরা নাস পড়ে ফুঁ দিতেন এবং শরীর যতটুকু সম্ভব মুছে নিতেন (মাথা থেকে শুরু করে তিনবার)।

সূরা ইখলাস

قُلْ هُوَ اللَّهُ أَحَدٌ ۞ اللَّهُ الصَّمَدُ ۞ لَمْ يَلِدْ وَلَمْ يُولَدْ ۞ وَلَمْ يَكُن لَّهُ كُفُوًا أَحَدٌ

উচ্চারণ: কুল হুওয়াল্লাহু আহাদ (১)। আল্লাহুছ ছামাদ (২)। লাম ইয়ালিদ ওয়া লাম ইউলাদ (৩)। ওয়া লাম ইয়াকুল্লাহু কুফুওয়ান আহাদ (৪)।

অর্থ: বলুন, তিনি আল্লাহ, এক-অদ্বিতীয় (১)। আল্লাহ অমুখাপেক্ষী (২)। তিনি কাউকে জন্ম দেননি এবং কেউ তাঁকে জন্ম দেয়নি (৩)। এবং তাঁর সমতুল্য কেউই নেই (৪)।

সূরা ফালাক

قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ الْفَلَقِ ۞ مِن شَرِّ مَا خَلَقَ ۞ وَمِن شَرِّ غَاسِقٍ إِذَا وَقَبَ ۞ وَمِن شَرِّ النَّفَّاثَاتِ فِي الْعُقَدِ ۞ وَمِن شَرِّ حَاسِدٍ إِذَا حَسَدَ

উচ্চারণ: কুল আ’উযু বিরাব্বিল ফালাক্ব (১)। মিন শাররি মা খালাক্ব (২)। ওয়া মিন শাররি গা-সিক্বিন ইযা-ওয়াক্বাব (৩)। ওয়া মিন শাররিন নাফ্ফা-ছা-তি ফিল ‘উক্বদ (৪)। ওয়া মিন শাররি হা-সিদিন ইযা-হাসাদ (৫)।

অর্থ: বল, আমি আশ্রয় গ্রহণ করছি ঊষার রবের। তিনি যা সৃষ্টি করেছেন তার অনিষ্ট থেকে। অন্ধকার রাতের অনিষ্ট থেকে যখন তা সমাগত হয়। গিরায় ফুঁ দানকারী নারীদের অনিষ্ট থেকে। এবং হিংসুকের অনিষ্ট থেকে যখন সে হিংসা করে।

সুরা নাস:

قُلْ أَعُوذُ بِرَبِّ النَّاسِ ۞ مَلِكِ النَّاسِ ۞ إِلَهِ النَّاسِ ۞ مِن شَرِّ الْوَسْوَاسِ الْخَنَّاسِ ۞ الَّذِي يُوَسْوِسُ فِي صُدُورِ النَّاسِ ۞ مِنَ الْجِنَّةِ وَالنَّاسِ

উচ্চারণ: কুল আ’উযু বিরাব্বিন না-স (১)। মালিকিন না-স (২)। ইলা-হিন না-স (৩)। মিন শাররিল ওয়াসওয়া-সিল খান্না-স (৪)। আল্লাযী ইউওয়াসউইসু ফী সুদূরিন না-স (৫)। মিনাল জিন্নাতি ওয়ান না-স (৬)।

অর্থ: বল, আমি আশ্রয় গ্রহণ করছি মানুষের রবের, মানুষের অধিপতির, মানুষের ইলাহের। আত্মগোপনকারী কুমন্ত্রণাদাতার অনিষ্ট থেকে, যে কুমন্ত্রণা দেয় মানুষের অন্তরে—জিন ও মানুষের মধ্য থেকে।


সুরা মুলক: রাসূল (সা.) সুরা মুলক না পড়ে রাতে ঘুমাতেন না। এটি কবরের আজাব থেকে সুরক্ষা দেয়।

সুরা মুলক

"সূরাটি পড়তে নামে ক্লিক করুন" খুব তাড়াতাড়ি আসছে

৩. আয়াতুল কুরসি পাঠের আমল

রাসূল (সা.) বলেছেন, কেউ যদি রাতে এটি পাঠ করে, তবে আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন ফেরেশতা তাকে সারারাত পাহারা দেয় এবং শয়তান তার কাছে আসতে পারে না।

আয়াতুল কুরসি

اَللّٰهُ لَا إِلٰهَ إِلَّا هُوَ الْحَيُّ الْقَيُّومُ لَا تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَلَا نَوْمٌ لَّهُ مَا فِي السَّمَاوَاتِ وَمَا فِي الْأَرْضِ مَن ذَا الَّذِي يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلَّا بِإِذْنِهِ يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلَا يُحِيطُونَ بِشَيْءٍ مِّنْ عِلْمِهِ إِلَّا بِمَا شَاءَ وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ وَلَا يَئُودُهُ حِفْظُهُمَا وَهُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيمُ

উচ্চারণ: আল্লা-হু লা ইলা-হা ইল্লা হুওয়াল হাইয়্যুল ক্বাইয়্যুম। লা তা’খুযুহু সিনাতুঁ ওয়ালা নাউম। লাহূ মা ফিস সামা-ওয়া-তি ওয়ামা ফিল আরদ্ব। মান যাল্লাযী ইয়াশফাউ ‘ইন্দাহূ ইল্লা বি ইযনিহ। ইয়া’লামু মা বাইনা আইদীহিম ওয়ামা খালফাহুম। ওয়ালা ইয়ুহীতূনা বিশাইয়িম মিন ‘ইলমিহী ইল্লা বিমা শা-আ। ওয়াসি’আ কুরসিয়্যুহুস সামা-ওয়া-তি ওয়াল আরদ্ব। ওয়ালা ইয়াউদুহূ হিফযুহুমা ওয়াহুওয়াল ‘আলিয়্যুল ‘আযীম।

অর্থ: আল্লাহ, যিনি ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই। যিনি চিরঞ্জীব ও বিশ্বচরাচরের ধারক। তন্দ্রা বা নিদ্রা তাঁকে পাকড়াও করতে পারে না। আসমান ও জমিনে যা কিছু আছে সবকিছু তারই মালিকানাধীন। তাঁর হুকুম ব্যতীত এমন কে আছে যে তাঁকে সুপারিশ করতে পারে? তাদের সম্মুখে ও পেছনে যা কিছু আছে সবকিছুই তিনি জানেন। তাঁর জ্ঞানসমুদ্র হতে তারা কিছুই আয়ত্ত করতে পারে না, কেবল যতটুকু তিনি দিতে ইচ্ছা করেন তা ব্যতীত। তাঁর কুরসি সমগ্র আসমান ও জমিন পরিবেষ্টন করে আছে। আর সেগুলোর তত্ত্বাবধান তাঁকে মোটেই শ্রান্ত করে না। তিনি সর্বোচ্চ ও মহান।

৪. সাইয়্যিদুল ইস্তিগফার (ক্ষমাপ্রার্থনার শ্রেষ্ঠ দোয়া)

যদি কোনো ব্যক্তি রাতে এটি পাঠ করে এবং ঐ রাতেই তার মৃত্যু হয়, তবে সে জান্নাতী হবে।

اللَّهُمَّ أَنْتَ رَبِّي لَا إِلَهَ إِلَّا أَنْتَ خَلَقْتَنِي وَأَنَا عَبْدُكَ وَأَنَا عَلَى عَهْدِكَ وَوَعْدِكَ مَا اسْتَطَعْتُ أَعُوذُ بِكَ مِنْ شَرِّ مَا صَنَعْتُ أَبُوءُ لَكَ بِنِعْمَتِكَ عَلَيَّ وَأَبُوءُ لَكَ بِذَنْبِي فَاغْفِرْ لِي فَإِنَّهُ لَا يَغْفِرُ الذُّنُوبَ إِلَّا أَنْتَ

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আন্তা রাব্বি, লা-ইলাহা ইল্লা আন্তা খালাকতানি, ওয়া আনা আব্দুকা, ওয়া আনা আলা আহদিকা ওয়া ওয়াদিকা মাস্তাতাতু, আউযুবিকা মিন শাররি মা সানাতু, আবুউ লাকা বিনিমাতিকা আলাইয়্যা, ওয়া আবুউ বিযাম্বি, ফাগফিরলি ফা-ইন্নাহু লা ইয়াগফিরুয যুনুবা ইল্লা আন্তা।

অর্থ:

তাসবিহ ফাতেমি: ঘুমানোর সময় ৩৩ বার সুবহানাল্লাহ, ৩৩ বার আলহামদুলিল্লাহ এবং ৩৪ বার আল্লাহু আকবার পাঠ করা। এটি দিনের ক্লান্তি দূর করতে এবং শক্তি যোগাতে সাহায্য করে।

৫. ঘুমানোর প্রধান দোয়া।

اَللّٰهُمَّ بِاسْمِكَ أَمُوْتُ وَأَحْيَا

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা বিসমিকা আমুতু ওয়া আহ্ইয়া।

অর্থ: হে আল্লাহ! আপনার নাম নিয়েই আমি মৃত্যুবরণ করছি (ঘুমাচ্ছি) এবং আপনার নাম নিয়েই জীবিত (জাগ্রত) হব। (সহিহ বুখারি: ৬৩২৪)

দোয়ার তাৎপর্য: ঘুম হলো 'ক্ষুদ্র মৃত্যু'। মানুষ যখন ঘুমায়, তখন তার আত্মা এক প্রকার আল্লাহর নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। এই দোয়ার মাধ্যমে একজন মুমিন স্বীকার করে নেন যে, তার জীবন এবং মৃত্যু—উভয়ই একমাত্র আল্লাহর হাতে।

মানসিক প্রশান্তি: ঘুমানোর আগে আল্লাহর নাম নেওয়ার মাধ্যমে অন্তরে প্রশান্তি আসে। দিনভর কাজের ক্লান্তি শেষে যখন আমরা আল্লাহর ওপর ভরসা করে চোখ বন্ধ করি, তখন অনিদ্রা বা দুঃশ্চিন্তা দূর হতে সাহায্য করে।

সুন্নতের অনুসরণ: প্রিয় নবী মুহাম্মদ (সা.) প্রতি রাতে ঘুমানোর আগে এই ছোট অথচ শক্তিশালী দোয়াটি পাঠ করতেন। এটি পাঠ করার মাধ্যমে আমরা একই সাথে জিকির এবং সুন্নতের সওয়াব লাভ করতে পারি।

সুরক্ষা ও সচেতনতা: ঘুমের মধ্যে মানুষের কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকে না। এই দোয়াটি মূলত নিজেকে আল্লাহর আশ্রয়ে সঁপে দেওয়ার একটি মাধ্যম, যেন ঘুমের অবস্থায় কোনো অমঙ্গল স্পর্শ না করে এবং জাগ্রত হওয়ার পর আবারও আল্লাহর ইবাদতে মগ্ন হওয়া যায়।

ঘুম থেকে উঠে কিছু আমল

রাতের নিদ্রা হতে সকালে যখন আমাদের চোখ আল্লাহর রহমতে খুলে তখন আল্লাহর শুকরিয়া গ্যাপন করা গুরুত্বপূর্ণ আমল

১. ঘুম থেকে উঠে দোয়া

বিসমিল্লাহির রহমানির রহিম

চোখ খোলার সাথে সাথেই মহান আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা সুন্নাত।

اَلْحَمْدُ لِلّٰهِ الَّذِيْ أَحْيَانَا بَعْدَ مَا أَمَاتَنَا وَإِلَيْهِ النُّشُوْرُ

উচ্চারণ: আলহামদুলিল্লাহিল্লাজি আহইয়ানা বা’দা মা আমাতানা ওয়া ইলাইহিন নুশুর।

অর্থ: সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি আমাদের মৃত্যুর (ঘুমের) পর পুনরায় জীবিত করলেন এবং তাঁর দিকেই আমাদের ফিরে যেতে হবে।

২. দু’হাতে মুখ মোছা

ঘুম থেকে জেগেই দুই হাত দিয়ে মুখমণ্ডল মলে ঘুমের আবেশ দূর করা। এটি নবীজি (সা.)-এর একটি সুন্নাত। এতে চেহারায় সজীবতা আসে।

সহিহ বুখারি: হাদিস নম্বর ১৮৩ ও ৪৪৪৭ এবং সহিহ মুসলিম: হাদিস নম্বর ৭৬৩।

৩. মেসওয়াক বা দাঁত পরিষ্কার করা

ঘুম থেকে ওঠার পর মুখ পরিষ্কার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাসূলুল্লাহ (সা.) ঘুম থেকে উঠে মেসওয়াক করতেন। মেসওয়াক না থাকলে ব্রাশ করে মুখ পরিষ্কার করে নেওয়া উচিত।

সহিহ বুখারি: হাদিস নম্বর ২৪৫ ও ৮৮৯। সহিহ মুসলিম: হাদিস নম্বর ২৫৫।

৪. ওজু ও ইবাদত

ওজু করা: পবিত্রতা অর্জনের মাধ্যমে অলসতা দূর হয়।

এবার সময় মতো ফযরের সালাত আদায় করা।

৫. সূরা হাশরের শেষ ৩ আয়াত

সকালে ৩ বার পড়লে আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার ওয়াদা করা হয়েছে।

هُوَ اللهُ الَّذِيْ لَاۤ اِلٰهَ إِلَّا هُوَج عَالِمُ الْغَيْبِ وَالشَّهَادَةِ هُوَ الرَّحْمٰنُ الرَّحِيْمُ هُوَ اللهُ الَّذِيْ لَاۤ اِلٰهَ إِلَّا هُوَج اَلْمَلِكُ الْقُدُّوْسُ السَّلَامُ الْمُؤْمِنُ الْمُهَيْمِنُ الْعَزِيْزُ الْجَبَّارُ الْمُتَكَبِّرُ سُبْحَانَ اللهِ عَمَّا يُشْرِكُوْنَ هُوَ اللهُ الْخَالِقُ الْبَارِئُ الْمُصَوِّرُ لَهُ الْأَسْمَآءُ الْحُسْنٰى يُسَبِّحُ لَهٗ مَا فِي السَّمٰوٰتِ وَالْأَرْضِ وَهُوَ الْعَزِيْزُالْحَكِيْمُ

উচ্চারণ: হুয়াল্লাহুল্লাজি লা ইলাহা ইল্লা হুয়া, আলিমুল গাইবি ওয়াশ শাহাদাতি হুওয়ার রাহমানুর রাহিম। হুয়াল্লাহুল্লাজি লা ইলাহা ইল্লা হুয়াল মালিকুল কুদ্দুসুস সালামুল মু’মিনুল মুহাইমিনুল আজিজুল জাব্বারুল মুতাকাব্বির, সুবহানাল্লাহি আম্মা ইউশরিকুন। হুয়াল্লাহুল খালিকুল বারিউল মুসাব্বিরু লাহুল আসমাউল হুসনা, ইউসাব্বিহু লাহু মা ফিস সামাওয়াতি ওয়াল আরদি ওয়া হুয়াল আজিজুল হাকিম।

অর্থ: আয়াত ২২: তিনিই আল্লাহ, তিনি ব্যতীত কোনো উপাস্য (ইলাহ) নেই; তিনি দৃশ্য ও অদৃশ্যের পরিজ্ঞাত। তিনি পরম দয়ালু, পরম করুণাময়। আয়াত ২৩: তিনিই আল্লাহ, তিনি ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই। তিনিই অধিপতি (মালিক), অতি পবিত্র (কুদ্দুস), শান্তিদানকারী (সালাম), নিরাপত্তা দানকারী (মুমিন), রক্ষক (মুহাইমিন), মহাপরাক্রমশালী (আজিজ), প্রতাপশালী (জাব্বার), অতীব মহিমান্বিত (মুতাকাব্বির)। তারা যাকে শরিক করে আল্লাহ তা থেকে পবিত্র। আয়াত ২৪: তিনিই আল্লাহ; সৃজনকর্তা (খালিক), উদ্ভাবনকর্তা (বারিউ), রূপদানকারী (মুসাব্বির)। সকল উত্তম নাম তাঁরই। আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবই তাঁর পবিত্রতা ঘোষণা করে। তিনি মহাপরাক্রমশালী, প্রজ্ঞাময় (হাকিম)।

সুনানে তিরমিজি (হাদিস নং ২৯২২) এবং মুসনাদে আহমাদ-এ বর্ণিত হয়েছে। হাদিসে এসেছে, যে ব্যক্তি সকালে তিনবার 'আউযুবিল্লাহিস সামিউল আলিমি মিনাশ শাইতানির রাজিম' পড়ার পর এই আয়াতগুলো পড়বে, ৭০ হাজার ফেরেশতা তার জন্য সন্ধ্যা পর্যন্ত রহমতের দোয়া করতে থাকে।

৬. বিপদ-আপদ থেকে সুরক্ষার দোয়া

সকালে ৩ বার পড়লে সারাদিন সব ধরণের অনিষ্ট থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

بِسْمِ اللَّهِ الَّذِي لَا يَضُرُّ مَعَ اسْمِهِ شَيْءٌ فِي الْأَرْضِ وَلَا فِي السَّمَاءِ وَهُوَ السَّمِيعُ الْعَلِيمُ

উচ্চারণ: বিসমিল্লাহিল্লাজি লা ইয়াদুররু মা’আসমিহি শাইউন ফিল আরদি ওয়ালা ফিস সামায়ি, ওয়া হুয়াস সামিউল আলিম।

অর্থ: আল্লাহর নামে শুরু করছি, যাঁর নামের বরকতে আসমান ও জমিনের কোনো কিছুই কোনো ক্ষতি করতে পারে না; আর তিনি সর্বশ্রোতা ও সর্বজ্ঞ।

৭. সাইয়্যেদুল ইস্তিগফার (ক্ষমা চাওয়ার শ্রেষ্ঠ দোয়া)

সকালে এই দোয়াটি পড়লে ওই দিন মারা গেলে জান্নাতি হওয়ার সুসংবাদ রয়েছে।

উপরের অনুচ্ছেদ ঘুমানোর আগে আমল অংশে দেওয়া রয়েছে

৮. দ্বীনের ওপর অটল থাকার দোয়া

সকালে ৩ বার পড়লে আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার ওয়াদা করা হয়েছে।

رَضِيتُ بِاللَّهِ رَبًّا وَبِالْإِسْلَامِ دِينًا وَبِمُحَمَّدٍ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ نَبِيًّا

উচ্চারণ: রাদিতু বিল্লাহি রাব্বান, ওয়া বিল ইসলামি দিনান, ওয়া বি মুহাম্মাদিন সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামা নাবিয়্যা।

অর্থ: আমি আল্লাহকে প্রতিপালক হিসেবে, ইসলামকে দ্বীন হিসেবে এবং মুহাম্মদ (সা.)-কে নবী হিসেবে পেয়ে সন্তুষ্ট।

সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ৫০৭২ ২. সুনানে তিরমিজি, হাদিস নং ৩৩৮৯ ৩. মুসনাদে আহমাদ, হাদিস নং ১৮৯৬৭

দুপুরের আগের গুরুত্বপূর্ণ আমল

১. ইশরাকের নামাজ

সূর্য পুরোপুরি ওঠার পর (সূর্যোদয়ের প্রায় ১৫-২০ মিনিট পর) এই নামাজ পড়তে হয়।

ফজিলত: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি জামাতের সাথে ফজরের নামাজ পড়ে বসে জিকির করে এবং সূর্য ওঠার পর দুই রাকাত নামাজ পড়ে, সে একটি পূর্ণ হজ ও ওমরাহর সওয়াব পায়।

রেফারেন্স: সুনানে তিরমিজি, হাদিস নং ৫৮৬।


২. চাশত বা সালাতুদ দোহা

সূর্য যখন একটু উপরে ওঠে (সকাল ৯টা থেকে ১১টার মধ্যে) তখন এই নামাজ পড়া হয়। এটি ২, ৪ বা ৮ রাকাত পর্যন্ত পড়া যায়।

ফজিলত: আমাদের শরীরের ৩৬০টি জোড়া বা হাড়ের প্রত্যেকটির পক্ষ থেকে প্রতিদিন সদকা করা ওয়াজিব। চাশতের দুই রাকাত নামাজ পড়লে এই ৩৬০টি সদকার সওয়াব আদায় হয়ে যায়।

রেফারেন্স: সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৭২০; সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ৫২৪২।


৩. রিজিক ও বরকতের দোয়া

সকালে কাজের শুরুতে বা বের হওয়ার সময় এই দোয়াটি পড়তে পারেন।

اللَّهُمَّ اكْفِنِي بِحَلَالِكَ عَنْ حَرَامِكَ، وَأَغْنِنِي بِفَضْلِكَ عَمَّنْ سِوَاكَ

উচ্চারণ: আল্লাহুম্মাকফিনি বিহালালিকা আন হারামিকা, ওয়া আগনিনি বিফাদলিকা আম্মান সিওয়াকা।

অর্থ: হে আল্লাহ! আপনি আমাকে আপনার হালাল রিজিক দিয়ে হারাম থেকে রক্ষা করুন এবং আপনার অনুগ্রহ দিয়ে আপনি ছাড়া অন্য সবার থেকে আমাকে অমুখাপেক্ষী করে দিন।

রেফারেন্স: সুনানে তিরমিজি, হাদিস নং ৩৫৬৩।


৪. কায়লুলা (দুপুরের সামান্য ঘুম)

দুপুরের খাবারের আগে বা পরে (জোহরের আগে হলে ভালো) অল্প সময় বিশ্রাম নেওয়া বা ঘুমানো সুন্নাত।

ফজিলত: নবীজি (সা.) বলেছেন, "তোমরা দুপুরে কিছুটা বিশ্রাম নাও (কায়লুলা করো), কারণ শয়তান কায়লুলা করে না।" এটি রাতের ইবাদতে শক্তি জোগায়।

রেফারেন্স: সহিহ আল-জামি, হাদিস নং ৪৪৩১।


৫. জোহরের আগের ৪ রাকাত সুন্নাত

জোহরের ফরজের আগে চার রাকাত সুন্নাত পড়ার বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে।

ফজিলত: নবীজি (সা.) বলেছেন, "যে ব্যক্তি জোহরের আগে চার রাকাত এবং পরে চার রাকাত (সুন্নাত ও নফল) নিয়মিত পড়বে, আল্লাহ তার জন্য জাহান্নামের আগুন হারাম করে দেবেন।"

রেফারেন্স: সুনানে আবু দাউদ, হাদিস নং ১২৬৯; তিরমিজি, হাদিস নং ৪২৭।

জোহর থেকে মাগরিবের আমল

১. জোহরের পরের সুন্নাত ও নফল

জোহরের ফরজের পর ২ রাকাত সুন্নাত এবং আরও ২ রাকাত নফল পড়ার বিশেষ ফজিলত রয়েছে।

ফজিলত: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি জোহরের আগে ৪ রাকাত এবং পরে ৪ রাকাত নিয়মিত পড়বে, আল্লাহ তার ওপর জাহান্নামের আগুন হারাম করে দেবেন।

রেফারেন্স: সুনানে তিরমিজি, হাদিস নং ৪২৭; আবু দাউদ, হাদিস নং ১২৬৯।


২. আসরের আগের ৪ রাকাত সুন্নাত

আসরের ফরজের আগে ৪ রাকাত সুন্নাত (সুন্নতে গায়রে মুয়াক্কাদাহ) পড়া অত্যন্ত সওয়াবের কাজ।

ফজিলত: নবীজি (সা.) দোয়া করেছেন, "আল্লাহ সেই ব্যক্তির ওপর রহম করুন, যে আসরের আগে ৪ রাকাত নামাজ আদায় করে।"

রেফারেন্স: সুনানে তিরমিজি, হাদিস নং ৪৩০; আবু দাউদ, হাদিস নং ১২৭১।


৩. আসরের পর তাসবিহ ও দোয়া

আসরের নামাজের পর মাগরিব পর্যন্ত সময়টি অত্যন্ত মূল্যবান। এই সময়ে জিকির করা সুন্নাত।

سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ ، سُبْحَانَ اللَّهِ الْعَظِيمِ

উচ্চারণ: সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি, সুবহানাল্লাহিল আজিম।

অর্থ: মহিমান্বিত আল্লাহ এবং তাঁরই সকল প্রশংসা; মহান আল্লাহ অতি পবিত্র।

রেফারেন্স: সহিহ বুখারি, হাদিস নং ৬৪০৬ (এটি পাঠে ঈমান মজবুত হয় ও আমলনামা ভারী হয়)।


৪. সন্ধ্যায় সুরক্ষার দোয়া

সূর্যাস্তের আগে বা পরে ৩ বার এই দোয়াটি পড়লে সব ধরণের অনিষ্ট থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ

উচ্চারণ: আউজু বিকালি মাতিল্লাহিত তাম্মাতি মিন শাররি মা খালাক।

অর্থ: আমি আল্লাহর পরিপূর্ণ কালেমাসমূহের উসিলায় তাঁর সৃষ্টির সকল অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাচ্ছি।

রেফারেন্স: সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ২৭২৩।


৫. আজানের উত্তর ও দরুদ শরিফ

আজান চলাকালীন মুয়াজ্জিনের কথার উত্তর দেওয়া এবং আজান শেষে দোয়া পড়া।

ফজিলত: যে ব্যক্তি আন্তরিকভাবে আজানের উত্তর দিবে এবং আজান শেষে দরুদ ও দোয়া পড়বে, তার জন্য কিয়ামতের দিন নবীজি (সা.)-এর শাফায়াত অবধারিত হবে।

রেফারেন্স: সহিহ বুখারি, হাদিস নং ৬১৪।

মাগরিব থেকে রাতের বিশেষ আমল

১. মাগরিব পরবর্তী সুন্নাত ও নফল

মাগরিবের ফরজের পর ২ রাকাত সুন্নাত পড়া সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ। এছাড়া সম্ভব হলে আরও নফল নামাজ (আওয়াবিন) পড়া।

ফজিলত: মাগরিব ও এশার মধ্যবর্তী সময়ে ইবাদত করা অত্যন্ত সওয়াবের কাজ, যা আমলনামাকে সমৃদ্ধ করে।

রেফারেন্স: সুনানে তিরমিজি, হাদিস নং ৪৩৫; ইবনে মাজাহ, হাদিস নং ১১৬৭।


২. সূরা মুলক (প্রতি রাতের আমল)

রাতে ঘুমানোর আগে সূরা মুলক তিলাওয়াত করা নবীজি (সা.)-এর নিয়মিত সুন্নাত ছিল।

ফজিলত: রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, "কুরআনের এই ৩০ আয়াতের সূরাটি পাঠকারীর জন্য সুপারিশ করবে যতক্ষণ না তাকে ক্ষমা করা হয়।" এটি কবরের আজাব থেকে মুক্তি দেয়।

রেফারেন্স: সুনানে তিরমিজি, হাদিস নং ২৮৯১; আবু দাউদ, হাদিস নং ১৪০০।


৩. সূরা বাকারার শেষ ২ আয়াত

এশার পর বা ঘুমানোর আগে সূরা বাকারার শেষ দুই আয়াত (আমানার রাসূলু... থেকে শেষ পর্যন্ত) পাঠ করা।

آمَنَ الرَّسُولُ بِمَا أُنزِلَ إِلَيْهِ مِن رَّبِّهِ وَالْمُؤْمِنُونَ

ফজিলত: নবীজি (সা.) বলেছেন, "যে ব্যক্তি রাতে এই দুই আয়াত পাঠ করবে, তা তার জন্য (বিপদ-আপদ থেকে সুরক্ষায়) যথেষ্ট হবে।"

রেফারেন্স: সহিহ বুখারি, হাদিস নং ৫০০৯; সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৮০৮।


৪. এশার জামাত ও বিতর নামাজ

এশার নামাজ জামাতে পড়া এবং রাতে ঘুমানোর আগে বিতর নামাজ আদায় নিশ্চিত করা।

ফজিলত: রাসূল (সা.) বলেছেন, "যে ব্যক্তি এশার নামাজ জামাতে পড়ল, সে যেন অর্ধেক রাত নফল নামাজ পড়ল।"

রেফারেন্স: সহিহ মুসলিম, হাদিস নং ৬৫৬; সহিহ বুখারি, হাদিস নং ৯৯৮।